ঝিনাইদহের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে মেডিসিন ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি।

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ওষুধ বিক্রির প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জরিমানা আদায় করায় দোকান বন্ধ করে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতি। ঔষধ ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, অন্যায় ও অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪টা থেকে এ ধমঘটের ডাক দেন বাংলাদেশ ড্রাগ এন্ড ক্যামিস্ট সমিতির শৈলকুপা পৌর এলাকার সদস্যবৃন্দ। এই সমিতির আওতায় পৌর বাজারের প্রায় অর্ধশত দোকান রয়েছে। সবগুলো দোকান বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে রোগীরা। বিশেষ করে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা জরুরি রোগীদের অবস্থা বেগতিক।

বৃহস্পতিবার দুপুরে শৈলকুপা শহরের কবিরপুরে ওষুধ ফার্মেসিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন শৈলকুপার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস,এম সিরাজুস সালেহীন। এরপর অন্যায় ও অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা আদায় করা হয়েছে বলে দাবি করেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, এন্টিবায়োটিক ঔষধ বিক্রির সময় ক্রেতার নাম ঠিকানা সংরক্ষণ না করায় ও পল্লী চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে এন্টিবায়োটিক ঔষধ বিক্রির অপরাধে এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ দোকানে পাওয়ায় জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়াও মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ কোম্পানীকে ফেরত দেয়ার জন্য দোকানে নির্দিষ্ট স্থানে সংরক্ষণ করা ছিলো তা ধ্বংস করে দিয়েছে। এই ঔষধ কোম্পানিতে ফিরিয়ে দিলে তারা সমপরিমাণ মূল্য ফেরত পায় অথবা ঔষধ বদল করে দেয়। এখানেও তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান। এরই প্রতিবাদে সকল ঔষধের দোকান বন্ধ করে কর্মবিরতি পালন করছে বিক্ষুব্ধ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিষ্টরা।  

সরেজমিনে দেখা গেছে, ওষুধ না পেয়ে রোগীর স্বজনেরা ছুটাছুটি করছেন। অনেকই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের সামনে জড়ো হয়েছেন। তারা বলছেন, ওষুধের কারণে যদি আমাদের রোগীরা মারা যায় তাহলে এর জন্য দায়ী থাকবেন , এসিল্যান্ড ও ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতি।

এদিকে অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া শৈলকুপার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস,এম সিরাজুস সালেহীন জানান, নিয়মিত অভিযানে আমরা মোবাইল কোর্ট করেছি। এতে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। দোকান বন্ধ থাকার বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নাই।

শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্নিগ্ধা দাস বলেন, ওষুধ ব্যবসায়ীরা মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন। তারা আমার কাছে আসেনি। এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নাই।