প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে  প্রস্তুত বরিশালে:  জেলা ও  মহানগর ঐক্যবদ্ধ বিএনপির আনন্দ মিছিল 

প্রতিনিধি বরিশাল। 

“তারেক রহমান আসবে

বরিশাল হাসবে”

তারেক রহমান এর আগমন

শুভেচ্ছা স্বাগতম… রীতিমতো ঢাকঢোল পিটিয়ে উৎসবমুখর শ্লোগানে মুখরিত বরিশাল নগরী। ১২ জুলাই রবিবার বরিশালের সড়ক মহাসড়ক পরিপূর্ণ লাখ নেতাকর্মীদের পদচারণায়। ১৩ জুলাই সোমবার অর্থাৎ এই প্রতিবেদন যখন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে তখন বরিশালে পা রেখেছেন জননেতা ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান। তার আগমন উপলক্ষে রবিবার সকাল থেকেই বরিশাল জেলার ১০ উপজেলার ৮৮টি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা জড়ো হয়েছেন নগরীতে। সকলের চোখেমুখে আনন্দের অনুভূতি, প্রত্যাশা পূরণের স্বপ্ন। বাকেরগঞ্জ দুধল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মকবুল খান এবং সদর উপজেলার চাঁদপুরা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মিজানুর রহমান মিলন জানালেন, প্রধানমন্ত্রী এই প্রথম বরিশালে আসবেন এই সংবাদেই আমরা ছুটে এসেছি। তিনি বরিশালে আসা মানেই বরিশালবাসীর জন্য সুখবার্তা হবে। কি পাবো কি পাবোনা সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, তার বরিশালে আসাটাই গুরুত্বপূর্ণ। সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা ও বরিশাল জেলা বিএনপির দক্ষিণ সদস্য বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের ব্যক্তিগত সহকারি মুশফিকুল হাসান মাসুম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরিশালে এই প্রথমবারের মতো সফরে আশায় আমরা তাকে শুরুতেই স্বাগতম শুভেচ্ছা জানাই আমরা দক্ষিণ অঞ্চলবাসি আশা করছি তার এই সফর ঘিরে বদলে যেতে পারে বরিশালের ছয়লেন সহ  ভাগ্য উন্নয়ন। 

এসময় গ্রামপর্যায়ের একাধিক নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী বরিশালে আসার বিষয়ে আমাদের সিনিয়র নেতারা উদ্যোগী হয়েছেন। বিশেষ করে বরিশাল সদর ৫ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড: মজিবর রহমান সরোয়ার, সিটি প্রশাসক ও বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান,   বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ। আবুল হোসেন এমপিসহ বরিশালের সকল সংসদ সদস্যদের প্রতি এজন্য কৃতজ্ঞতা জানাতে এবং আনন্দ মিছিলে অংশ নিতে আমরা আজ বরিশালে এসেছি বলে জানান সাধারণ নেতাকর্মীরা। 

ছোট ছোট মিছিল এসে জড়ো হয় নগরীর প্রাণকেন্দ্র টাউনহলের সামনে। এখানে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে বরিশাল জেলা দক্ষিণ ও উত্তর বিএনপি সহ অংগসংগঠনের নেতৃবৃন্দ আনন্দ মিছিল নিয়ে বের হন। মিছিলে অগ্রাভাগে দেখা যায়, বরিশালের গুরুত্বপূর্ণ সব নেতাদের। পৃথক মিছিলে ছিলেন মজিবর রহমান সরোয়ার, আকন কুদ্দুসুর রহমন, মীর জাহিদসহ নেতৃবৃন্দ। আবসর জেলা দক্ষিণ বিএনপির ব্যানারে ছিলেন  আবুল হোসেন, আবুল কালাম শাহিন, মিজানুর রহমান, মকবুল খান সহ অনেকেই। মহানগর বিএনপির যুগ্ম সদস্য সচিব নাসরিন আক্তারও পৃথক আনন্দ মিছিল নিয়ে নগরীতে শোভাযাত্রা করেন। 

এসময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বরিশাল ৫ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড: মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পরে এই প্রথম  বরিশালে আসবেন। বরিশালের কি প্রয়োজন তা তিনি ভালোভাবে জানেন। জাতীয় সংসদেও তা আমি তুলে ধরেছি। তাই পৃথকভাবে দাবীদাওয়া পেশ করার কোনো প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করিনা। তিনি আসবেন এটাই আমাদের জন্য সব দাবী পূরণের আগাম বার্তা বহন করছে। সেজন্যই আমাদের এই আনন্দ মিছিল। 

একই কথা বলেন বরিশাল ৬ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হোসেন। তিনিও দাবী করেন, প্রধানমন্ত্রীর আসবেন এটাই বড় আনন্দের সংবাদ। বাকীসব অটোমেটিক হবে ইনশাআল্লাহ। 

বরিশাল জেলা দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম শাহিন বলেন, আজ আমরা নগরীতে আনন্দ মিছিল করে আগামীকাল সকালে প্রধানমন্ত্রীকে সুশৃঙ্খলভাবে বরণ করতে সব প্রস্তুতি শেষ করলাম। সোমবার সকাল থেকে জেলার গৌরনদী উপজেলার তরকী বন্দর থেকে ত্রিশ গোডাউন পর্যন্ত মানবচেইন তৈরি করে আমরা প্রধানমন্ত্রীকে বরণের প্রস্তুতি নিয়েছি। তবে এসময় নেতাকর্মীরা কেউ কোনো প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করবেনা। 

 প্রধানমন্ত্রী আসার আগমন উপলক্ষে বরিশাল নগরীতে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক দক্ষিণ  ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ সভাপতি এডভোকেট এইচ এম তসলিমের নেতৃত্বে একটি বড় মিছিল বের করেন নগরীর বিভিন্ন রোড। ও সাবেক সদস্য সচিব মহানগর বিএনপি (ভারপ্রাপ্ত) আফরোজা খানম নাসরিনের নেতৃত্বে নগরীতে একটি আনন্দ মিছিল করেন।  এদিকে বরিশাল মহানগর ছাত্র আহ্বায়ক এনামুল হাসান তাসনিম ও সদস্য সচিব মো.নাভিদ রহমান (তুষার) প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও মিছিল করেন। 

এর আগে গত ১০ জুলাই বরিশালে আনন্দ মিছিল ও প্রস্তুতি সভা করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিনসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ প্রধানমন্ত্রীকে বরণের বিভিন্ন বিষয় সেখানে তুলে ধরা হয়েছে। এসময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী গৌরনদী আগৈলঝারা আসনের সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর পরিষ্কার নির্দেশ রয়েছে কোনোরকম তোরণ, ব্যানার ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড তৈরি বা প্রদর্শন করা যাবেনা। এগুলো তৈরির পিছনে যে টাকা খরচ হবে তা বন্যাদুর্গত বা অসহায় মানুষের কল্যানে দান করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। 

জহির উদ্দিন স্বপন এবং বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন উভয়েই দলমত নির্বিশেষে  মানবচেইন তৈরিতে সাধারণ মানুষকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন সবাইকে। 

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বরিশালে এই উৎসব আয়োজন চলছে এই আনন্দ ও ভালোবাসায় আজ সিক্ত হবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।