বরিশাল আসছেন মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন 

স্টাফ রিপোর্টার। 

 মন্ত্রিসভায় জহির উদ্দিন স্বপনের ঐতিহাসিক অভিষেক

( তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে জহির উদ্দিন স্বপন,১৮ বছর পর বরিশাল-১ আসনে বিএনপির জয়।  

 বরিশাল-১ (গৌরনদী–আগৈলঝাড়া) আসন পুনরুদ্ধারের মধ্য দিয়ে নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভের পর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন স্থান পেয়েছেন নতুন মন্ত্রিসভায়। তাকে দেওয়া হয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। এলাকার সন্তান মন্ত্রী হওয়ায় গৌরনদী ও আগৈলঝাড়াজুড়ে বইছে আনন্দের জোয়ার।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ আসনের ১২৯টি ভোটকেন্দ্রে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও দুবারের সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপন ১ লাখ ৫৫২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা কামরুল ইসলাম খান পান ৪৬ হাজার ২৬৩ ভোট। মোট ৪৯ হাজার ২৯৫ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে তৃতীয়বারের মতো জাতীয় সংসদে প্রবেশ করেন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ফলাফল বরিশাল অঞ্চলে বিএনপির রাজনৈতিক পুনরুত্থানের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত। দীর্ঘ সময় পর এ আসন পুনর্দখল এবং একই সঙ্গে স্থানীয় নেতৃত্বের একজনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা দলীয় সংগঠনে নতুন প্রাণসঞ্চার করেছে।

জহির উদ্দিন স্বপনের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। আশির দশকে তিনি বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার মধ্য দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিতি পান। ১৯৯৩ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং ধাপে ধাপে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন। দলের মিডিয়া সেলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক, কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং বর্তমানে দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে একাধিকবার গ্রেফতার হয়ে কারাভোগও করেছেন। 

জহির উদ্দিন স্বপন প্রথমবার বরিশাল-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। পরে ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে পুনর্নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয় পাননি। এবারের বিজয়ের মধ্য দিয়ে তৃতীয়বারের মতো সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন তিনি। এর আগে সংসদ সদস্য থাকাকালে তিনি পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি এবং সংস্থাপন মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেসময়ে সরকারি ব্যয় ও প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিতকরণে তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।

জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে জহির উদ্দিন স্বপনের। তিনি দুবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়া বিশ্বব্যাপী আইনপ্রণেতাদের নির্দলীয় নেটওয়ার্ক ‘Parliamentarians for Global Action (পিজিএ)’–এর এশিয়া অঞ্চলের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর জহির উদ্দিন স্বপন প্রথমবারের মতো নিজ নির্বাচনী এলাকায় সফরে আসছেন । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মুহাম্মদ সাঈদ আলী স্বাক্ষরিত পত্র অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় তিনি জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে গৌরনদীর উদ্দেশে সড়কপথে রওনা দেবেন। রাত ১০টায় গৌরনদী উপজেলার প্রবেশদ্বার ভুরঘাটা বাসস্ট্যান্ডে তাকে দলীয় নেতাকর্মীরা অভ্যর্থনা জানাবেন।

এরপর রাত ১২টা ১ মিনিটে গৌরনদী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তিনি বরিশাল সার্কিট হাউসে রাত্রীযাপন করবেন। শনিবার সকালে মহান শহীদ দিবস উপলক্ষে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন। একই দিন আগৈলঝাড়া ও গৌরনদীতে ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠান এবং উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন তিনি। এরপর সোমবার তার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে। 

মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “বরিশালবাসীর দীর্ঘদিনের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চাই। দেশ ও জনগণের স্বার্থকে সর্বাগ্রে রেখে দায়িত্ব পালন করব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর জহির উদ্দিন স্বপন বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার সরিকল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার হাতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ করায় স্থানীয়দের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা-দীর্ঘ সংসদীয় অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তিনি জাতীয় পর্যায়ে গণমাধ্যম খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবেন।