বরিশাল সড়কের নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে সেতুর ৫৩ কোটি টাকা লোপাটের, অভিযোগ 

নিজস্ব প্রতিবেদক। 

 নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপবিভাগীয় আল আমিন ও উপসহকারি হামিদুর রহমান সহ বরিশাল সড়ক বিভাগের কোটি টাকার দুর্নীতি অনিয়ম করে আরাম আয়েশের জন্য কৌশলে বদলি হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর দোয়ারিকা উজিরপুরে অবস্থিত মেজর এম এ জলিল শিকারপুর সেতুতে সরকারি ‘খাস কালেকশন’-এর নামে চালানো হয়েছে নজিরবিহীন হরিলুট। জনসাধারণের করের টাকা আর পরিবহনের টোল সরকারি কোষাগারে যাওয়ার কথা থাকলেও, অভিযোগ উঠেছে বরিশাল সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলামের পকেটে গেছে শতকোটি টাকার সিংহভাগ। খাস কালেকশনের দোহাই দিয়ে সরকারের চোখে ধুলো দিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

যেভাবে পাতানো হলো লুটের ফাঁদ

২০২৪ সালের ৩০শে জুন দোয়ারিকা-শিকারপুর সেতুর ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিন বছরের জন্য ১০১ কোটি ৩৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা মূল্যে নতুন ইজারাদার হিসেবে অনুমোদিত হয় ‘চাঁদনী ডিপার্টমেন্টাল স্টোরস’। তবে শর্ত অনুযায়ী প্রথম কিস্তির টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে সওজ তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত করে। আর এখান থেকেই শুরু হয় দুর্নীতির আসল খেলা। ইজারা না দিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ সরাসরি টোল আদায় বা ‘খাস কালেকশন’ শুরু করে। ২০২৪ সালের ৩০শে জুন থেকে চলতি বছরের ৩০শে এপ্রিল পর্যন্ত এই খাস কালেকশনের নামেই চলে হরিলুট।

দিনে আদায় ১৩ লাখ, সরকারি ব্যাংকে জমা মাত্র ৫ লাখ!

অনুসন্ধানে চোখ কপালে ওঠার মতো তথ্য বেরিয়ে এসেছে। খাস কালেকশন চলাকালীন প্রতিদিন এই দুটি সেতু থেকে প্রকৃতপক্ষে গড়ে টোল আদায় হয়েছে ১৩ লাখ টাকার বেশি। কিন্তু সওজ কর্মকর্তা নাজমুল ইসলামের নির্দেশে সরকারি কোষাগারে জমা দেখানো হতো প্রতিদিন গড়ে মাত্র ৫ লাখ ৭৬ হাজার টাকা!

মোট আদায়কৃত টোল: ৯৫ কোটি টাকা (৩০ জুন ২০২৪ – ৩০ এপ্রিল ২০২৫)

সরকারি কোষাগারে জমা: মাত্র ৪২ কোটি টাকা

লোপাট আত্মসাৎ: ৫৩ কোটি টাকা!

হিসাব বলছে, অর্ধেকেরও বেশি টাকা সরকারি খাতায় না তুলে সরাসরি লোপাট করেছেন বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম ও তার সিন্ডিকেট।

সওজ-এর গোপন চিঠিতেই দুর্নীতি দিবালোকের মতো স্পষ্ট

কর্মকর্তারা যতই ঢাকার চেষ্টা করুন না কেন, কর্তৃপক্ষের নিজস্ব চিঠিই তাদের থলে থেকে বিড়াল বের করে দিয়েছে। চলতি বছরের ১২ই মার্চ নবম আহ্বানে সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠান ‘আতিক কনস্ট্রাকশন’-এর অনুকূলে ৮৫ কোটি টাকায় তিন বছরের ইজারা অনুমোদনের সুপারিশ করেন সওজ-এর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী।

ওই চিঠিতে তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন যে, খাস কালেকশনের হিসাবে তিন বছরে সরকারি আয় দাঁড়ায় মাত্র ৬৩ কোটি টাকা। অথচ আতিক কনস্ট্রাকশনের ইজারা মূল্য (৮৫ কোটি টাকা) খাস কালেকশনের তুলনায় ৩৫.৩৯ শতাংশ বেশি! অর্থাৎ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নিজস্ব হিসাব অনুসারেই সময়মতো ইজারা না দিয়ে খাস কালেকশনের নামে ফেলে রাখায় সরকার সরাসরি ২২ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব হারিয়েছে। তবে বাস্তব তদন্ত বলছে, প্রকৃত লুটের পরিমাণ এই তথাকথিত সরকারি হিসাবের চেয়েও অন্তত তিন গুণ বেশি!

উল্লেখ্য, এর সাথে জড়িত তৎকালীন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আল আমিন ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী হামিদুর রহমান। তারা গোপনে এই দুর্নীতি ঢাকতে কৌশলে দুজনেই বদলি হয়ে গেছেন। বর্তমানে আল আমিন পিরোজপুরে কর্মরত আছেন ও হামিদুর রহমান বদলি হয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়ের এস্টিমেট শাখায় রয়েছেন।

তবে এবিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলী উপসহকারী প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তাদের পাওয়া যায়নি বিদায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।