ঢাকা পোস্তখোলা টু আবদুল্লাপুর রুটে বেপরোয়া রাইদা-ভিক্টর,প্রাণের ঝুঁকিতে যাত্রীরা

স্টাফ রিপোর্টার।

রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত রুট পোস্তখোলা থেকে আবদুল্লাহপুর। গাজীপুর থেকে পোস্তখোলা পর্যন্ত রামপুরা হয়ে চলাচল করে রাইদা, ভিক্টর, বৈশাখী সহ কয়েক হাজার লোকাল বাস। এই রুটের বেশিরভাগ চালকের বিরুদ্ধেই বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

সরেজমিনে দেখা যায়, বেশিরভাগ সময়ই সাইড নিয়ে পাল্লাপাল্লি করে বাস চালান চালকরা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে দেখা যায়, ভিক্টর পরিবহনের একটি বাসের কাচের জানালা ভাঙা। পাশের সিটে বসে ছিলেন যাত্রী শামসুল হক (৩০)। তিনি গাজীপুর থেকে উঠেছেন, তার গন্তব্য যাত্রাবাড়ী বাস স্ট্যান্ড।

ভুক্তভোগী যাত্রী শামসুল হক বলেন,”এরা একে তো ভাঙাচোরা জানালার গ্লাস নিয়ে বাস চালায়, তার মধ্যে আবার এভাবে প্রতিযোগিতা করে গাড়ি চালায় ড্রাইভার। এতে করে নানা দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হয় আমাদের মতো সাধারণ যাত্রীদের। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের চলাচল করতে হয়।”

আরেক যাত্রী বলেন,”প্রতিদিন অফিসের জন্য এই বাসে উঠতে হয়। রাস্তায় মনে হয় রেস হচ্ছে। এক বাস আরেক বাসকে ওভারটেক করার জন্য এমনভাবে টান দেয়, মনে হয় এখনই উল্টে যাবে। দেখার কেউ নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভিক্টর বাসের সহকারী মো. ফারুক হোসেনের সাথে কথা হয়।

যাত্রীদের ভাঙা জানালা ও ফিটনেসবিহীন বাসের অভিযোগ স্বীকার করে তিনি বলেন,”আমরা খুব শীঘ্রই আমাদের বাসের মেরামত ও জানালার কাজ শুরু করবো। মালিক পক্ষকে জানানো হয়েছে, সামনের সপ্তাহের মধ্যেই বাসের কাজ ধরা হবে।

তবে বাস পাল্টাপাল্টি করে চালানো এবং যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি দায়সারা মন্তব্য করেন।

ফারুক হোসেন বলেন,”সাইট দিতে গিয়ে সড়কে একটু গাড়ির সংঘর্ষ তো হবেই। রাস্তায় এতো গাড়ি, পাল্লাপাল্লি একটু-আধটু হয়। যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টা আমরা দেখছি, সমস্যা হবে না।”

তার এমন বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ যাত্রীরা। যাত্রীদের দাবি, একজন স্টাফের মুখে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য প্রমাণ করে তারা যাত্রীদের জীবনকে কতটা হালকাভাবে নিচ্ছে

এ বিষয়ে যাত্রীদের দাবি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, ভাঙাচোরা ফিটনেসবিহীন বাস এবং চালকদের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। দ্রুত এই রুটে বিআরটিএ ও ট্রাফিক পুলিশের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা ট্রাফিক বিভাগের এসি বাড্ডা জোনের নুসরাত ইয়াসমিন তিশা মুঠোফোনে বলেন, আমাদের ট্রাফিক পুলিশ সব সময় সড়কে, বিশেষ করে নতুন বাজারসহ সব জায়গায় জোরদার রয়েছে। কেউ যদি বেপরোয়া গাড়ি চালায়, অবশ্যই কর্তব্যরত সার্জেন্ট আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা এবং তিনি তা নিচ্ছেন। প্রতিনিয়তই মামলাসহ তাদের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং দুর্ঘটনা এড়াতে ট্রাফিক আইন মেনে চলার জন্য সকল চালকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।